1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

ইরানের সংঘাতে মার্কিন প্রাণহানির আশঙ্কা: ট্রাম্প

রিপোর্টারের নামঃ এম. রাহাত হোসাইন
  • আপডেট টাইমঃ 02-03-2026 ইং
  • 2689 বার পঠিত
ad728

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সেনাসদস্য প্রাণ হারাতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সংঘাত শেষ হওয়ার আগেই হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “দুঃখজনকভাবে আরও প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা তা ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, কিন্তু পরিস্থিতি কঠিন।”

এর আগে রোববার সকালে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, শনিবার শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইএসটি সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। এছাড়া কয়েকজন সামান্য শার্পনেল আঘাত ও কনকাশনে ভুগছেন বলে জানানো হয়।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে, তবে আমরা তা কমিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সেন্টকমের তথ্যমতে, শনিবার ইএসটি সময় রাত ১টা ১৫ মিনিটে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে এই অভিযান শুরু হয়। এতে বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান, এফ-১৬, এফ-১৮ ও এফ-২২ যুদ্ধবিমান এবং এম-১৪২ হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমসহ বিভিন্ন আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদর দপ্তর, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন এবং সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো।

সেন্টকম সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নয়টি নৌযান ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ধ্বংস করেছে।

এই যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। খামেনির মৃত্যু প্রসঙ্গে ট্রাম্প কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী করেন।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ দায়িত্ব নিয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি। এতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

রোববার ট্রাম্প পুনরায় আইআরজিসি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানের জনগণের উদ্দেশে বলেন, “সাহস দেখান, নিজের দেশ নিজেরা ফিরিয়ে নিন। আমেরিকা আপনাদের পাশে থাকবে।”

ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, পুরো অভিযান শেষ হতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তার ভাষায়, “এটি বড় একটি সামরিক প্রক্রিয়া। আমাদের হিসাব অনুযায়ী চার সপ্তাহের মতো সময় লাগবে—সম্ভব হলে তারও কম।”

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..