1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

অভিজ্ঞতা পরিচিতি থাকলেও জয় এল না

রিপোর্টারের নামঃ অহিদুল ইসলাম ( ঢাকা )
  • আপডেট টাইমঃ 14-02-2026 ইং
  • 4351 বার পঠিত
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। একদিকে নতুন প্রজন্মের একাধিক প্রার্থী অপ্রত্যাশিত সাফল্য দেখিয়েছেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ও বহুল আলোচিত কয়েকজন নেতা ভোটযুদ্ধে পরাজয়ের মুখ দেখেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাঁরা ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে, ফল ঘোষণার পর তাঁদের অনেকেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের ফল ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। আরও দুটি আসনের ভোট গণনা সম্পন্ন হলেও আদালতের নির্দেশে ফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, মোট ২৯৯ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

পরাজিতদের তালিকায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। খুলনা-৫ আসনে তিনি প্রায় আড়াই হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগার লবীর কাছে হেরে যান। একইভাবে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বড় ব্যবধানে পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের কাছে।

খুলনা-১ আসনে জামায়াত ভিন্নধর্মী প্রার্থী হিসেবে কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দিলেও তিনি জয় পেতে ব্যর্থ হন। সুনামগঞ্জ-২ আসনেও জামায়াত প্রার্থী শিশির মনির বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও আলোচনায় থাকলেও বগুড়া-২ আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে পারেননি। নির্বাচনের আগে প্রচারণা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত ফলাফল তাঁর পক্ষে যায়নি।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়াই করা রাশেদ খান জয় পাননি; সেখানে জামায়াত প্রার্থী আবু তালিব এগিয়ে থাকেন। ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল হক পরাজিত হন জামায়াত প্রার্থী মো. সাইফুল আলমের কাছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর-৩ আসনে তৃতীয় অবস্থানে থাকেন। গাইবান্ধা-১ আসনেও দলটির শামীম হায়দার পাটোয়ারী পরাজিত হন। ফেনী-2 আসনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও জয় পাননি।

ঢাকা-১৩ আসনে ধর্মীয় অঙ্গনের পরিচিত মুখ মামুনুল হক অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ইসলামী আন্দোলনের নেতা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমও জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসনে তৃতীয় হন। ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে। নরসিংদী-২ ও পঞ্চগড়-১ আসনেও এনসিপির প্রার্থীরা জয় পেতে ব্যর্থ হন, যদিও পঞ্চগড়ে ব্যবধান ছিল তুলনামূলক কম।

এছাড়া বরিশাল-৫ আসনে চিকিৎসক মনীষা চক্রবর্তী তৃতীয় স্থানে থাকেন। ঢাকা-১৬ আসনে সাবেক ফুটবলার আমিনুল হকও জয় পাননি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ হারুন পরাজিত হন জামায়াত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুলের কাছে।

নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে—শুধু অভিজ্ঞতা, পরিচিতি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা নয়; মাঠপর্যায়ের সংগঠন, ভোটকৌশল ও জনসমর্থনের বাস্তব হিসাবই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয় জয়-পরাজয়ের সমীকরণ। এবারের নির্বাচন সেই বাস্তবতারই নতুন উদাহরণ হয়ে থাকল।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..